আচ্ছা, টিকটক থেকে কি টাকা ইনকাম করা যায় নাকী শুধুশুধু সময় নষ্ট? আর ইনকাম করা গেলেও কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়? টাকা ইনকাম করার জন্য কত ফলোয়ার প্রয়োজন হয়? ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি জানি আপনার মনেও এই প্রশ্নগুলো কখনো না কখনো অবশ্যই এসেছে। যদি এই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর জানতে চান তাহলে আমি বলবো আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন।
হ্যালো এভরিওয়ান,
আজকে আমি আপনাদের টিকটক থেকে টাকা ইনকাম করার আদ্যপান্ত সহজ ভাষায় জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো।
টিকটক থেকে টাকা ইনকাম করা যায় কিনা? টিকটক থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম হয়? টিকটক থেকে ইনকাম করতে কত ফলোয়ার লাগে? কত টাকা ইনকাম করা যায়? টিকটক থেকে কতভাবে টাকা ইনকাম করা যায়? এইসকল প্রশ্নের উত্তর আমি নিচে আপনাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছি।
বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম হলো ‘টিকটক’।
মূলত, টিকটক প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই রাতরাতি সেলিব্রিটি বনে যাচ্ছেন, পাশাপাশি তাদের আয়ের বড় একটা অংশ টিকটক থেকেই ব্যবস্হা করে নিচ্ছেন।
টিকটক থেকে কি সত্যি টাকা ইনকাম করা যায়?

আপনাদের প্রথম প্রশ্নের উত্তরে আমি আপানাদের পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই, ‘হ্যাঁ’ টিকটক থেকে টাকা ইনকাম করা যায়।
এমনও অনেক টিকটক ভিডিও নির্মাতা আছেন যারা প্রতি মাসে টিকটক থেকেই লাখ লাখ টাকা ইনকাম করতেছেন।
শুধু এক ভাবে নয় বরং বেশ কয়েকটি উপায়ে টিকটক থেকে টাকা আয় করা যায়।
টিকটকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়?

টিকটক থেকে বেশ কয়েক ভাবে টাকা আয় করা সম্ভব।
আপনাদের সুবিধার্থে জানিয়ে রাখি বাংলাদেশে বর্তমানে ‘টিকটক মনিটাইজেশন’ প্রক্রিয়া চালু হয়েছে।
তাছাড়াও আরো কয়েক ভাবে টিকটক থেকে আয় করা যায়। যেমনঃ
- টিকটক ভিডিও গিফট
- Brand Promotion
- টিকটক ভিডিও মনিটাইজেশন
- Affiliates Marketing
- টিকটক Live Streaming
- টিকটকে পন্য বা সেবা বিক্রি
তো মূলত এই ৬ ভাবে টিকটক থেকে টাকা ইনকাম করা সম্ভব।
টিকটক থেকে টাকা ইনকাম করতে কত ফলোয়ার লাগে?

আপনার Tiktok Account এ কত ফলোয়ার হলে আপনি টাকা ইনকাম শুরু করতে পারবেন সেটা প্রকৃতপক্ষে নিদির্ষ্ট করে বলা সম্ভব না।
তবে টিকটক থেকে টাকা ইনকামের একটি উপায় ‘Tiktok Video Gift’ থেকে টাকা ইনকাম করতে আপনার টিকটক প্রোফাইলে সর্বনিন্ম ১০ হাজার ফলোয়ার থাকতে হবে।
তাছাড়া বাকী উপায় গুলো থেকে টাকা ইনকাম করতে আপনাকে নির্দিষ্ট ফলোয়ারের চাহিদা পূরণ করতে হবে না।
কতগুলো ভিডিও থাকলে টিকটকে টাকা ইনকাম শুরু হয়?

কতগুলো ভিডিও থাকলে টিকটকে টাকা ইনকাম শুরু হয়?
আপনার এই প্রশ্নের উত্তরটিও নিদির্ষ্ট করে বলা সম্ভব না। কেননা, আপনার Tiktok Id তে কতগুলো ভিডিও আছে সেটা দেখার বিষয় না।
ভিডিও যতগুলোই থাকুক না কেন ১০ হাজার ফলোয়ার থাকলেই ইনকাম শুরু করতে পারবেন।
তো চলুন এখন বিস্তারিত জেনে আসা যাক কিভাবে টিকটক থেকে টাকা ইনকাম করা সম্ভব।
Tiktok Video Gift এর মাধ্যমে টাকা ইনকামের প্রক্রিয়া?
আপনার টিকটক আইডিতে ভিডিও গিফট অপশন চালু হলে আপনার ফ্যান আপনাকে গিফট বা উপহার হিসাবে কয়েন পাঠাতে পারবে।
আপনি সেই কয়েন টাকায় কনভার্ট করলেই ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাবেন।
এক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই ভালো ফ্যানবেজ থাকতে হবে। তবেই তারা নিজেরা টাকা দিয়ে আপনাকে উপহার পাঠাবে।
টিকটক ভিডিও গিফট চালু করতে আপনার নিচের এই শর্তগুলো পূরণ করতে হবে।
১. আইডিতে কমপক্ষে ১০,০০০ ফলোয়ার লাগবে।
২. আইডির বয়স ৩০ দিনের বেশী হতে হবে।
৩. আইডি ব্যবহারকারীর বয়স ১৮ এর বেশী হতে হবে।
৪. ভিডিও গুলো টিকটকের পলিসি মেনে আপলোড করতে হবে।
এই ভিডিও টি দেখলে সম্পূর্ণ ধারণা পেয়ে যাবেন।
এই শর্তগুলো পূরণ হলেই আপনি আপনার টিকটক আইডিতে ভিডিও গিফটের মাধ্যমে ইনকাম শুরু করতে পারবেন।
টিকটকে Brand Promotion করে টাকা ইনকাম
কোনো একটি প্রতিষ্ঠান আপনাকে তাদের কোনো একটি পণ্য পাঠাবে। যেমনঃ জুতা, ঘড়ি, ড্রেস কিংবা অন্য যেকোনো কিছু।
এবার আপনি সেই পণ্যটি পড়ে টিকটক বানাবেন এবং আপনার অডিয়েন্সকে বলবেন যেন তারা ঐ প্রতিষ্ঠান (যেটি আপনাকে পণ্যটি পাঠিয়েছে) থেকে পণ্যটি ক্রয় করে।
পাশাপাশি আপনি টিকটক ভিডিওর নিচে ঐ প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেইজ বা ইউটিউব চ্যানেল মেনশন করে দিবেন।
এই প্রক্রিয়াটিকে বলে ব্র্যান্ড প্রোমোশন।
বর্তমান সময়ে টিকটক ভিডিও নিমার্তারা এই Brand Promotion এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করতেছে।
তবে হ্যাঁ, Brand বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই প্রোমোশনের অফার পাওয়ার জন্য টিকটকে আপনার ভালো পরিচিতি থাকতে হবে।
বড় ফ্যান বেজ না থাকলে ব্র্যান্ড আপনাকে দিয়ে প্রমোশন করাবে না।
টিকটকে Live Streaming করে টাকা ইনকাম
টিকটক লাইভ স্ট্রিমিং এর মাধ্যমে টাকা উপার্জন করতে হলে আপনাকে দিনের একটা নিদির্ষ্ট সময়ে টিকটকে Live এ আসতে হবে।
লাইভে এসে আপনি আপনার অডিয়েন্স এর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিবেন।
তখন আপনার কোনো অডিয়েন্স চাইলে আপনাকে কয়েন আকারে গিফট বা উপহার পাঠাতে পারে।
আপনি সেই কয়েন টাকাতে কনভার্ট করে হাতে পাবেন।
বাংলাদেশ লাইভ স্ট্রিমিং করে ইনকাম খুব কম সংখ্যক নির্মাতা করলেও বাহিরের দেশগুলোতে এই লাইভ স্ট্রিমিং এর মাধ্যমে প্রচুর উপার্জন করে থাকেন টিকটক ভিডিও নিমার্তারা।
টিকটক থেকে মনিটাইজেশনের মাধ্যমে ইনকাম
Tiktok Monetization অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া মনিটাইজেশন থেকে একটু অন্য রকম। বাংলাদেশে টিকটকে মনিটাইজেশন চালু হলেও বর্তমানে শুধুমাত্র Tiktok Subscription মনিটাইজেশন চালু করা সম্ভব।
আর এই টিকটক সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে ইনকাম করতে হলে আপনার অবশ্যই কোনো একটি বিষয়ে প্রপার নলেজ থাকতে হবে।
ধরুন, আপনি খুব ভালো কেক বানাতে পারেন, এখন আপনি চাচ্ছেন কিভাবে কেক বানাতে হয়ে সেটা আপনি মানুষজনকে টাকা দিয়ে শেখাবেন। তাহলে আপনাকে Tiktok Subscription চালু করতে হবে।
এই সাবস্ক্রিপশন নেওয়া গ্রুপে শুধুমাত্র তারাই এড হতে পারবে যারা টাকা দিয়ে Subscription কিনবে।
তাই এটির মাধ্যমে ইনকাম করতে হলে আপনাকে কোনো একটা বিষয়ে দক্ষ হতে হবে।
বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়াটি এখনোও ততটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি।
এই সাবস্ক্রিপশন বাদে আপাতত অন্য কোনো মনিটাইজেশন চালু করার উপায় নাই।৷
তবে আশা করা যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে টিকটকেও ভিডিওতে ads বা বিঙ্ঘাপন দেখিয়ে টাকা ইনকাম করার সুযোগ তৈরি হবে।
টিকটকে Affiliate Marketing করে ইনকাম
মনে করুন, কোনো একটি বড় কোম্পানি তাদের কোনো একটি পণ্য আপনার কাছে পাঠালো। কোম্পানিটি আপনার সাথে চুক্তিবদ্ধ হবে যে, আপনি আপনার টিকটকের ভিউয়ারদেরকে বলবেন যে তারা পন্যটি যেন ঐ কোম্পানি থেকে।
আপনি টিকটক ভিডিওর নিচে ঐ কোম্পানির পণ্যটি কেনার লিংক দিয়ে দিবেন।
যদি অডিয়েন্স আপনার লিংকে ক্লিক করে পণ্যটি ক্রয় করে তবে আপনিও পণ্যটির দামের ৫% অথবা ১০% পেয়ে যাবেন। আর এই সিস্টেমটিই হলো অ্যাফিলেইট মার্কেটিং।
তবে অ্যাফিলেইট মার্কেটিং করতে হলে অবশ্যই টিকটকে আপনার অনেক ফ্যান ফলোয়ার থাকতে হবে।
টিকটকে পণ্য বা সেবা বিক্রি করে ইনকাম
এই প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশীরভাগ দেশেরই খুবই জনপ্রিয়।
ধরুন, আপনার একটি জুতার দোকান আছে। আপনি অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও জুতা বিক্রি করে আপনার ইনকাম বহুগুণ বাড়িয়ে নিতে পারেন।
আপনি আপনার দোকানের কোনো একটি জুতা বা পণ্যের ভিডিও করে টিকটকে আপলোড করবেন। সেটির দাম উল্লেখ করে দিবেন পাশাপাশি কেউ অনলাইনে অর্ডার করলে কিভাবে করবে সেটা ভিডিওতে বলে দিবেন।
এমনি সরাসরি যোগাযোগের জন্য আপনার কনটাক্ট নাম্বারও দিয়ে রাখতে পারেন।
আপনার পণ্যটি পছন্দ হলে একজন অডিয়েন্স আপনাকে কল বা মেসেজ দিয়ে অর্ডারটি কনফার্ম করবে।
আপনি পণ্যটি ডেলিভারি সিস্টেমের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিবেন। গ্রাহক আপনাকে অনলাইনে পেমেন্ট করে দিবেন।
আর এইভাবে আপনি আপনার ব্যবসার পরিধি কয়েকগুণ বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়িয়ে নিচ্ছে। যেমনঃ মেয়েদের পোশাক, ছেলেদের পোশাক, ঘড়ি, জুতা, কৃত্রিম ফুল, কাস্টমাইজড জিনিস, কেক ইত্যাদি।
চাইলে আপনিও এভাবে টিকটককে কাজে লাগিয়ে একজন সফল উদ্যোগতা হয়ে উঠতে পারেন।
টিকটক ইনকাম নিয়ে আমাদের কিছু কথাঃ
দেখুন প্রতিটি জিনিসেরই দুইটি দিক থাকে। ইতিবাচক এবং নেতিবাচক।
এখন জিনিসটিকে আপনি কোন কাজে লাগবেন সেটি নির্ভর করে সম্পূর্ণ আপনার উপর।
তাই ধৈর্য ধরে কাজ করে যান সফলতা আজ না হোক কাল ধরা দিবেই।
এমনও অনেক টিকটক ভিডিও নির্মাতা দেখেছি যারা টিকটকসহ ফেসবুক, ইউটিউব সোশ্যাল মিডিয়াকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করতেছে প্রতিনিয়ত।
তাই অযথা সময় নষ্ট না করে কোনো একটি কাজে লেগে পড়ুন।
ইউটিউবে কিভাবে চ্যানেল খুলে টাকা ইনকাম করবেন জানতে ভিডিওটি দেখুন
ফেসবুক আইডি এবং পেজ থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করবেন জানতে ভিডিওটি দেখুন
Our More Content
আমাদের শেষ কথাঃ
তো বন্ধুরা, আশা করি আমাদের আজকের আয়োজন আপনাদের ভালো লেগেছে।
এগুলো ছাড়াও অন্য কোনো বিষয় জানার থাকলে কমেন্টে জানতে চাইতে পারেন। আমরা যথাযথ উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবে।
আমাদের লেখা সম্পর্কে আপনাদের কোনো মতামত, অভিযোগ বা পরামর্শ থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। আর আমাদের লেখাগুলো নিয়মিত পড়তে আমাদের ক্যাপশন সাইট ডট কম (CaptionSite.Com) ওয়েবসাইটটি ফলো করুন। ধন্যবাদ।
Pingback: হুন্ডি কি? হুন্ডি কেন অবৈধ?? হুন্ডি পদ্ধতির সুবিধা কি কি?
Pingback: ফেসবুক এটিটিউড স্ট্যাটাস ২০২৪ - Facebook Attitude Caption - CAPTION SITE